Bangladesh Telegraph
সর্বশেষ: বহদ্দারহাটে চসিকের উচ্ছেদ অভিযান, ২ শতাধিক অবৈধ দোকান অপসারণ বিদ্যুৎ সংকটে আশার আলো কাপ্তাই: পুরোদমে সচল ৫টি ইউনিট, মিলছে ২২২ মেগাওয়াট যারা পাবেন না ফেমিলি কার্ড: সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত শর্তাবলি ভালোবাসার দাম এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় এক প্রবাসীর নিঃশব্দ কান্না পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তাহীনতা ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য: পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটক হয়রানির চিত্র চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান: সিডিএর নতুন সীমানায় রাউজান চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর: ‘রাজত্বের হাতবদল’ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নতুন চ্যালেঞ্জ বুদ্ধের শিক্ষা ছিল—অলৌকিক শক্তির ওপর নয়, নিজের জ্ঞান ও কর্মের ওপর বিশ্বাস দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি: ডাঃ জোবায়দা রহমান চট্টগ্রাম পরিণত হলো আস্ত এক অস্ত্রের কারখানায়! মালয়েশিয়ায় ‘অপস সাসার’ অভিযানে ২৪৫ বাংলাদেশিসহ ৫২৮ অভিবাসী আটক চমেক হাসপাতালে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ওয়ার্ডে বইবে ফুলের সুবাতাস, নেতৃত্বে কায়সার আলী চৌধুরী মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা তুলতে ঘুষের দাবি, ১৭ বছরের শাহেদ বানালো ‘ঘুষ ডট সাইট’ ৭৫ কোটি টাকার ভবন নির্মাণে জালিয়াতি: জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে কে-পপ তারকা লি নো: ১০০ মিলিয়ন ওন অনুদান আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উপহার: চুয়েট পরিবহন বহরে নতুন বাস নেপালের বন্যায় অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন তারা বিশ্বসেরা মার্তিনেজকে দলে টানলো চেলসি প্রকৃতির রোষাণলে নেপাল: প্লাবনের এই কাঁপন কি আছড়ে পড়বে বাংলাদেশেও? নভেম্বরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ভোট
প্রতিবেদক - | বুধবার, ২০২৬ আগস্ট ২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ: ৫০ লক্ষাধিক অনুসারীর পদচারণায় এশিয়ার বৃহত্তম জশনে জুলুস চট্টগ্রামে
অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ: ৫০ লক্ষাধিক অনুসারীর পদচারণায় এশিয়ার বৃহত্তম জশনে জুলুস চট্টগ্রামে

অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ: ৫০ লক্ষাধিক অনুসারীর পদচারণায় এশিয়ার বৃহত্তম জশনে জুলুস চট্টগ্রামে

​টেলিগ্রাফ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম শহর আজ শুধুই একটি নগরী ছিল না; এটি পরিণত হয়েছিল বিশ্বনবীর (সা.) ভালোবাসায় সিক্ত এক মহাসমুদ্রে। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ধরাধামে শুভ আগমনের স্মৃতিকে চিরভাস্বর করে রাখতে বন্দরনগরীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এশিয়ার সর্ববৃহৎ জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)।
​প্রায় ৫০ লক্ষাধিক আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষের তাকবীর ধ্বনি আর সুমধুর নাতে মোস্তফায় মুখরিত ছিল পুরো আকাশ-বাতাস।
​এই বিশাল জশনে জুলুসের মূল ভিত্তি ও জমায়েতস্থল ছিল মুরাদপুর-ষোলশহর সংলগ্ন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা এবং আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরিয়া শরিফ। এই ঐতিহাসিক শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন বিশ্বখ্যাত দরবারে আলিয়া সিরিকোট শরিফের (পাকিস্তান) সম্মানিত সাজ্জাদানশীন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.)। তাঁর উপস্থিতিতে জুলুস লাভ করে এক আধ্যাত্মিক পূর্ণতা ও সুশৃঙ্খল সৌন্দর্য।


​আশেপাশের পথজুড়ে লাখো ভক্তের ঢল:
সূর্য ওঠার আগেই বদলে যেতে থাকে চট্টগ্রামের পথঘাট। উত্তর চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, এমনকি দেশের দূর-দূরান্ত থেকে রাত ও ভোর থেকেই ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
​জনসমুদ্রের ব্যাপ্তি: বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, ২ নম্বর গেট ছাড়িয়ে বহদ্দারহাট পর্যন্ত এলাকাগুলোতে শুধুই সবুজ পতাকা আর রাসুল (সা.)-এর শানে লেখা বিভিন্ন ব্যানার হাতে মানুষের সুশৃঙ্খল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
​বর্ণিল সাজসজ্জা: সড়ক ও অলিগলি নানা রঙের পতাকা, কালেমা সংবলিত তোরণ এবং নুরানি আলোয় সাজানো হয়।
​শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ: দীর্ঘ পথ জুড়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সুপেয় পানি, তাবাররুক ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করতে দেখা যায়, যা ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
​ঐতিহ্য, সুফিচিন্তা ও শান্তি সংহতি:
১৯৭৪ সালে সিরিকোট শরিফের আল্লামা তায়েব শাহ (র.)-এর নির্দেশনায় আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এই বিশাল জুলুসের শুভ সূচনা হয়েছিল। সময়ের আবর্তে আজ এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় গণজমায়েতে রূপ নিয়েছে। কেবল একটি র‌্যালি বা মিছিল নয়, এই জুলুস মূলত সুফি দর্শনের মূল সুর—প্রেম, সাম্য, শান্তি ও মানবকল্যাণের এক মহোত্তম বহিঃপ্রকাশ।
​আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মা.জি.আ.) মোনাজাত পরিচালনা করেন। বিশ্বনবীর সুন্নাহ ও সুফি সাধকদের উদারনৈতিক শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে এই ঐতিহাসিক মিলনমেলা সমাপ্ত হয়, যা আরও একবার প্রমাণ করল—চট্টগ্রাম কেবল বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, প্রেমের ও সুফিবাদেরও অনন্য কেন্দ্রবিন্দু।

মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।